প্রেষনার সংজ্ঞা দাও। শিক্ষার্থীর মধ্যে বিখনের প্রেষণা সৃষ্টিতে শিক্ষকের ভূমিকা আলোচনা করো।
প্রেষণার সাজা
পৃষ্ঠা নং 22-এর বিশ্লেষণধর্মী উত্তরভিত্তিক। নং প্রশ্নের উত্তরের 'প্রেষণার সংজ্ঞা' শীর্ষক অংশ দ্যাখো।
শিক্ষার্থী মধ্যে শিখণের প্রেষণা সৃষ্টিতে শিক্ষকের ভূমিকা
শিক্ষার্থীকে আধুনিক সমাজজীবন যাপনের উপযোগী বিভিন্ন বিষয় শেখাতে হলে, তার মধ্যে সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী নানা ধরনের বিষয় শিখনের প্রেষণা সৃষ্টি করতে হবে। এই প্রেষণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে শিক্ষকের একটি গুরুবপূর্ণ ভূমিকা লক্ষ করা যায়। নিম্নলিখিত উপায়গুলি অবলম্বনের দ্বারা একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রেষণার উন্মেষ ঘটাতে পারেন-
(1)পুরস্কারের ব্যবস্থা: পুরষ্কার প্রদানের ব্যবস্থা করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রেষণার উন্মেষ ঘটাতে পারেন। পুরষ্কার বিভিন্ন ধরনের প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ধীরে ধীরে ওই প্রেষণা যাতে শিক্ষার্থীর অন্তর হতে পারে। ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রাথমিক প্রেষণা সন্ধারের জন্য শিক্ষক পুরস্কার থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসারিত হয়, তাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।
(2) প্রণৎসার ব্যবস্থা: প্রশংসাও এক ধরনের পুরষ্কার। ছাত্রছাত্রীদের কাজের প্রশংসা করলে তারা উৎসাহিত হয় এবং তাদের মধ্যে শিখনের প্রতি আগ্রহ জাগে। পুরস্কারের মতো প্রশংসাও শিক্ষার্থীর আত্মস্বীকৃতির চাহিদাকে পরিতৃপ্ত করে।
(3) শিক্ষার্থীকে সফলতা লাতে সাহায্য: শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের সফলতা সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেন, অর্থাৎ শিক্ষার্থী যদি তার কাজে সাফল্য লাড় করে, তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখনের প্রেষণা সৃষ্টি হয়। অপরপক্ষে, বিফলতা শিক্ষার্থীর শিখনের প্রেষণা নষ্ট করে।
(4)শিক্ষালয়ে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি: শিক্ষার্থীদের যদি যথাযথভাবে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতাধর্মী কাজে নিয়োগ করা যায়, তাহলে তাদের মধ্যে শিখন নিয়ে প্রেষণার উন্মেষ ঘটে। বাস্তবে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা যখন পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে, তখন তাদের শেখার আগ্রহ বেড়ে যায়।
(5) শিক্ষার্থীর ক্রমিক অগ্রগতির যথাযথ মূল্যায়নের ব্যবস্থা: শিক্ষক যদি খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের ক্রমিক অগ্রগতির যথাযথ মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেন, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মনে প্রেষণার সন্ধার ঘটে।