কয়েকজন মনোবিজ্ঞানীর ধারণা বিশ্লেষণ করে শিখনের একটি কার্যকরী সংজ্ঞা দাও। শিখনের ক্ষেত্রে প্রেষণার ভূমিকা কী?
উত্তর
পিষণের কার্যকরী সংজ্ঞা
বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী শিখনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। তার মধ্যে কয়েকটি পুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা এখানে উল্লেখ করা হল.
শিখণে প্রেষণার ভূমিকা
বাজির বা শিক্ষার্থীর শিখনের জেয়ে প্রেষণা প্রবুদ্ধপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা জানি, শিখন হল বাক্তির আচরণ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। শিখন যেহেতু উদ্দেশ্যমুখী আপ্ররণ সম্পাদনের প্রক্রিয়া, তাই সেক্ষেত্রে প্রেষণার প্রয়োজন। কারণ যে-কোনো উদ্দেশ্যমুখী কাজের গেয়ে প্রেষণা অপরিহার্য। শিখন প্রক্রিয়ায় প্রেষণা ঠিক কী ভূমিকা পালন করে, তা এখানে উল্লেখ করা হল-
[1] উদ্যয় সৃষ্টি: ব্যক্তির যে-কোনো কাজের বা আংরণ সম্পাদনের জন্য সবার আগে সরকার উদ্যম। শ্রেষণা ব্যক্তির মধ্যে সেই উদ্যম সৃষ্টি করে, ব্যক্তিকে কর্মে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য শক্তি জোগায়। মূল কথা হল, প্রেষণা বাক্তির অভ্যন্তরীণ উদ্যমকে জাগ্রত করে।
[2] আচরণের প্রবণতা নির্ধারণ: শিক্ষার্থীর আচরণের প্রবণতা নির্ধারণে প্রদি প্রেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর আচরণ ঠিক এটি করখানি উদ্দেশ্যমুখী হবে, লক্ষ্যবস্তুগুলির মধ্যে কোল্টির প্রতি অধিক পুরুয় থাকবে, কোন বিষয়ে কখন, কীভাবে সাড়া দেওয়া উচিত, কোল্টির য়ে যেতে সাড়া না দেওয়াই শ্রেয়-এসবই প্রেষণা শির করে দেয়।
(3) যথাযথভাবে কর্মসম্পাদন: প্রেষণার ফলে বাক্তি কেবলমাত্র কোনো জব এতে এর কাজে অগ্রসর হয় তাই নয়, বরং কাজটি যাতে সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায়, তার জন্য সচেষ্ট হয়। প্রেষণার দরুন শিক্ষার্থীরা নিজের চেষ্টাতেই অনেক কিছু শিখে ফেলে এবং জটিল বিষয়কেও আয়ত্ত করার চেষ্টা করে। প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষিকার সাহায্য নিতে দ্বিধা বোধ করে না।
(4) শিখন কৌশলের ওপর প্রভাব বিস্তার ও মনোযোগ বৃদ্ধি: প্রেষণা শিক্ষার্থীর শিখন কৌশলকেও প্রভাবিত করে। তা ছাড়া প্রেষণা শিক্ষার্থীকে পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে কোনো-একটি বিষয়ে অধিক মনোযোগী করে তোলে। না ফলে শিক্ষার্থীর কাছে শিখনের কাজ অনেক সহজ হয়। শিক্ষার্থী যে-কোনো পাঠ অর্থপূর্ণভাবে শিখতে সক্ষম হয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জন ডিউই-র মতে, শিক্ষার প্রতিটি অভিজ্ঞতা যাতে শিক্ষার্থীর কাছে অর্থপূর্ণ হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকার অন্যতম কর্তব্য।
[5] আচরণের গতিপথ নির্ণয়: প্রেষণার অপর একটি ভূমিকা হল এত শিক্ষার্থীদের আচরণের গতিপথ নির্ণয় করা। শিক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছোতে হলে শুধুমাত্র আংরণ সম্পাদনই নয়, সেই আচরণকে এমনভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছোনো যায় এবং প্রেষণার পরিতৃপ্তি ঘটে।