welcome to mygeo.in Indian no 1 geography based website in Bengali

প্রেষণার প্রভাবক বা নির্ধারক বলতে কী বোঝ? প্রেষণার উল্লেখযোগ্য প্রভাবক বা শর্তগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।2+6

প্রেষণার প্রভাবক বা নির্ধারক বলতে কী বোঝ? প্রেষণার উল্লেখযোগ্য প্রভাবক বা শর্তগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।2+6


উত্তর:

প্রেষণার প্রভাবক বা নির্ধারক

মনোবিদদের মতে, কতকগুলি প্রভাবক বা শর্ত ব্যক্তির প্রেষণার গতি নির্ধারণ করে। ওই শর্ত বা প্রস্তাবকগুলিকে প্রেষণার নির্ধারক বলা হয়।

প্রেষণার উল্লেখযোগ্য প্রভাবক বা শর্তসমূহ

প্রেষণার উল্লেখযোগ্য প্রভাবক বা শর্তগুলি হল-অনুরাগ, কৌতূহল, উদ্‌বেগ, মূল্যবোধ, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, অর্জিত অসহায়তা, দক্ষতা সম্বন্ধে আত্মবিশ্বাস, সাফল্য, উদ্দীপনা, জীবনাদর্শ, অভ্যাস, পরিবেশ ইত্যাদি। নীচে এগুলির সম্পর্কে আলোচনা করা হল-

[1] অনুরাগ: প্রেষণার একটি পুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক বা নির্ধারক হল ব্যক্তির অনুরাগ। কোনোরকম চাহিদাপূরণের জন্য চাহিদা তৃপ্তিকারক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে যেটির প্রতি ব্যক্তির অনুরাগ বা আগ্রহ আছে, সেটি সে নির্বাচন করে।

[2] কৌতূহল: মনোবিদ ম্যাকডুগাল-এর মতে, যে বিষয়ে কোনো বাক্তির কৌতূহল সৃষ্টি হয়, সেই বিষয়ে কৌতূহল নিবৃত্ত না হওয়া পর্যন্ত সে অস্বস্তি বোধ করে। সুতরাং বলা যায়, কৌতূহল হল বাস্তির প্রেষণার অন্যতম প্রভাবক।

[3] উদ্বেগ: ব্যক্তির কোনো একটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রেষণার প্রভাবক রূপে কাজ করে। এর ফলে কোনো কাজ সহজ বা কঠিনের মাঝামাঝি হলে, প্রেষণা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়।

[4]মূল্যবোধ: কোনো সমাজে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তির মনে ওই সমাজে প্রলিত ধ্যানধারণা অনুযায়ী ভালোমন্দ, সত্য-মিথ্যা, সৎ-অসৎ, ব্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে যে বোধ বা ধারণার সৃষ্টি হয়, তাকেই এই বস্তির মুগাবোধ আখ্যা দেওয়া হয়। ব্যক্তিজীবনে মূলবোস প্রেষণাক্লিয়ার একটি পুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক।

[5] নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র: ব্যক্তির প্রেষণা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মনোবিদ রোটার (Rotter) দুই ধরনের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেছেন। বাহানিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং অশুনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল খারাপ হলে যদি প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়াকে দায়ী করা হয়, তবে সেটি বাহানিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। আর যদি শিক্ষার্থী মনে করে সে ডালো প্রস্তুতি নিতে পারেনি বলেই এই ফল, তবে সেটি অশুনিয়ন্ত্রক।

[6] অর্জিত অসহায়তা: কোনো ব্যক্তি কোনো কাজে বারে বারে অসফল হলে সেই কাজে প্রেষণা জাগে না। অসফলতার মধ্য দিয়ে ওই ব্যক্তির মধ্যে অসহায়তার সৃষ্টি হয়।

[7] দক্ষতা সম্বন্ধে আত্মবিশ্বাস: যেসব ব্যক্তির মধ্যে নিজের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে, তারা সহজেই যে-কোনো কাজে প্রেষণা পায়। অন্যদিকে, যারা নিজের প্রতি বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে না, তাদের কোনো কাজেই প্রেষণা জাগে না। তাই দক্ষতা সম্বন্ধে আত্মবিশ্বাসকে প্রেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক বলা হয়।

[৪] সাফল্য: ব্যক্তি কোনো কাজে সাফল্য লাভ করলে, সেই কাজের জন্য তার মধ্যে প্রেষণার সন্ধার ঘটে। অর্থাৎ, সাফল্য প্রত্যক্ষভাবে কোনো ব্যক্তির প্রেষণা প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

[9] উদ্দীপনা: নানাপ্রকার বস্তু বা ঘটনা প্রেষণাকে কার্যকরী করে তোলে। উপযুক্ত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও লক্ষ্যবস্তুর প্রকৃতি ব্যক্তির মধ্যে প্রেষণার উন্মেষ ঘটায়।

[10] জীবনাদর্শ: ব্যক্তির জীবনাদর্শ প্রেষণার নির্ধারক হিসেবে কাজ করে। সঠিক জীবনাদর্শ গড়ে উঠলে বাক্তি সেই লক্ষ্যে পৌঁছোনোর চেষ্টা করে। ফলে তার যে-কোনো আচরণ ওই লক্ষনমুখী হয়।

[11] অভ্যাস: প্রত্যেক ব্যক্তিরই এমন কিছু অভ্যাস থাকে যা তার মধ্যে কোনো বিশেষ কাজ করার জন্য প্রেষণা জাগায়। চাহিদাপূরণ হলে, অভ্যাসগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে যান্ত্রিক নিয়মে কাজ করে। প্রেষণা সৃষ্টিতে সহায়ক হয় না।

[12] পরিবেশ: ব্যক্তির পরিবেশ প্রেষণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে পুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাস্তবে দেখা গেছে, বাক্তির পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ উপযুক্ত না হলে, সে কোনো কাজে সঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে পারে না। ফলে কোনো কাজের ক্ষেত্রেই তার মধ্যে প্রেষণার উন্মেষ ঘটে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Middle post ad 01