ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত(Tropical Cyclone)
ধারণা (Concept)
নিরক্ষরেখার উভয়দিকে ১০ থেকে 20° অক্ষাংশের মধ্যে গঠিত ঘূর্ণবাত ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত নামে পরিচিত। এই অঞ্চলে সমুদ্রের উপর যখন একটি প্রবল নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় তখন উদ্বু-আর্দ্র বায়ু প্রথমে ওপরে উঠে এবং ক্রমশ শীতল ও ভারী হয়ে আবার কুণ্ডলাকারে (spiral of air) ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রস্থলে নেমে আসে। ফলে বজ্রঝড়সহ প্রচুর বৃষ্টি হয়। (a tropical cyclone is a strom system characterized by a large low pressure centre and numerous thunderstroms that produce strong winds and heavy rain.) I
বৈশিষ্ট্য (Characteristics)
1. পৃথিবীর কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী স্থানে যেসব ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়, তা ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত (tropical cyclone) নামে পরিচিত।
2. ঘূর্ণনের কেন্দ্রে নিম্নচাপ (low pressure) থাকে। এই ঘূর্ণবাতে ব্যারোমিটার যন্ত্রের পারদ হঠাৎ নেমে যায়। অন্যভাবে বলা যায় ব্যারোমিটারের পারদ হঠাৎ নেমে গেলে ঘূর্ণবাতের আগমন সূচিত হয়।
3. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের আয়তন বৈচিত্র্যময়। এই ঘূর্ণবাতের ব্যাস সর্বনিম্ন 100 মিটার থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু উল্লম্ব উচ্চতা অনেক বেশি। একটি প্রবল ঘূর্ণবাতের গড় উচ্চতা 9.6 কিমি।
4. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন স্থায়ী হয়। এই স্থায়িত্ব নির্ভর করে ঘূর্ণবাতের অবস্থান ও প্রকৃতির উপর।
5. ঘূর্ণবাতের দিক নিয়ত বায়ুর বিপরীত। অর্থাৎ ঘূর্ণবাত উত্তর গোলার্ধে বামদিকে (anticlockwise) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ডানদিকে (clockwise) বেঁকে প্রবাহিত হয়।
6. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় 120 কিমি থেকে 200 কিমি হয়। কখনো কখনো 200 কিমিরও বেশি হয়।
7. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সাধারণত সমুদ্রের ওপর সৃষ্টি হয়। সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
৪. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সাধারণত গ্রীষ্ম ও শরৎকালে উৎপত্তি লাভ করে।
9. সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সাথে সাথে ঘূর্ণবাতের গতিপথ যথাক্রমে উত্তর ও দক্ষিণমুখী হয়।
10. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বায়ুর চাপের ঢালের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ধীরে ধীরে দিক পরিবর্তন করে।
11. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে সমচাপরেখা এককেন্দ্রিক, বৃত্তাকার, ঘনসন্নিবিষ্ট ও সমানুবর্তী। সাধারণত ঘূর্ণবাতের একটি মাত্র চক্ষু থাকে।
12. সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠীয় উত্তাপজনিত পরিচলন স্রোতের ফলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত উৎপত্তি লাভ করে।
13. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত যুক্ত অঞ্চলে বজ্র বিদ্যুৎসহ কিউমুলো-নিম্বাস (cumulo-nimbus) ও নিম্বো-স্ট্যাটাস (nimbo-stra-tus) মেঘে আকাশ পূর্ণ থাকে। কয়েক ঘণ্টা থেকে থেকে কয়েকদিন যাবৎ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। ঘূর্ণবাত চলাকালীন বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ কিছুটা হ্রাস পায়। ঘূর্ণবাতের ফলে উয় অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত এবং শীতল অঞ্চলে তুষারপাত ও বৃষ্টিপাত একসঙ্গে হয়।
14. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে বায়ুপ্রাচীর (front) লক্ষ করা যায় না।
15. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের চরিত্র ধ্বংসাত্মক। এর ফলে বন্যা, জীবনহানি ও সম্পত্তির প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।