পোস্টগুলি

১৯৯০ সালের পর বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা World Wars and media coverage post 1990

 ১৯৯০ সালের পর বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা  World Wars and media coverage post 1990


১৯৯০ সালের পর বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা সাধারণত ঘটে সম্ভাবনা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রসঙ্গ নিয়ে। এই সময়ে যুদ্ধ ও সংঘাতের মিডিয়া কভারেজ বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছিল, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও গ্লোবালাইজেশনের কারণে। নিচে এই সময়কালের মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো:


১. বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা

ঠান্ডা যুদ্ধের সমাপ্তি (1991):-  

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের হুমকি কমলেও আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধি পায়।

ক) নতুন শক্তি কাঠামো:-

 চীন, ভারত, এবং রাশিয়ার মত উদীয়মান শক্তিগুলোর কারণে সম্ভাব্য যুদ্ধের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।


খ) আধুনিক অস্ত্র:-

 নিউক্লিয়ার অস্ত্র, সাইবার ওয়ারফেয়ার, এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার নিয়ে বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পায়।

২. মিডিয়া কভারেজের ভূমিকা


ক) সামরিক সংঘাতের কভারেজ:- 

 ইরাক যুদ্ধ (2003), আফগান যুদ্ধ, এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় মিডিয়ার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

লাইভ রিপোর্টিং, বিশেষ করে ২৪-ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল এবং অনলাইন মিডিয়া, যুদ্ধের কভারেজে নতুন মাত্রা যোগ করে।

খ) প্রপাগান্ডা এবং ভুল তথ্য:-

 যুদ্ধকালীন সময়ে মিডিয়া প্রায়শই প্রপাগান্ডা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ইরাক যুদ্ধের সময় "ম্যাস ডেসট্রাকশন অস্ত্র" সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়িয়ে যুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করা হয়েছিল।


গ) সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা (2010-এর দশক থেকে):- 

ফেসবুক, টুইটার, এবং ইউটিউবের মত প্ল্যাটফর্মগুলো যুদ্ধের ফুটেজ, প্রতিবাদ, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।

একইসঙ্গে, এসব মাধ্যম ভুল তথ্য ও কনস্পিরেসি থিওরি প্রচারের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

৩. গণমাধ্যম ও যুদ্ধের মানবিক দিক :- 

যুদ্ধকালীন উদ্বাস্তু সংকট, শিশুদের জীবনমানের অবনতি, এবং মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত খবর বেশি গুরুত্ব পায়।

ছবি এবং ভিডিওর মাধ্যমে যুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি দেখানোর ফলে মানুষের মধ্যে সহানুভূতি এবং প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

৪. মিডিয়ার চ্যালেঞ্জ:- 

ক) সেন্সরশিপ:-

 যুদ্ধকালীন সময়ে সরকার ও সামরিক সংস্থাগুলি অনেক সময় মিডিয়ার তথ্যপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করে।

খ) নিরপেক্ষতা:- 

 যুদ্ধের খবর পরিবেশনে নিরপেক্ষ থাকা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ অনেক মিডিয়া সংস্থা সরাসরি রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের মুখে পড়ে।

৫. গ্লোবাল মিডিয়া আউটলেটগুলোর উদ্ভব:- 

আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন, এবং আরটি (রাশিয়া টুডে)-এর মতো আন্তর্জাতিক চ্যানেলগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যুদ্ধ নিয়ে তাত্ক্ষণিক খবর সরবরাহ করে।

১৯৯০ সালের পর মিডিয়া কভারেজের বিকাশ যুদ্ধের ধারণা এবং এর প্রতি মানুষের মনোভাব বদলে দিয়েছে। যদিও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং গ্লোবালাইজেশন যুদ্ধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়েছে, একইসঙ্গে এটি তথ্যের অপব্যবহার এবং গুজব ছড়ানোরও সুযোগ তৈরি করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন