বায়ুপুঞ্জের সীমান্তের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Fronts):
দুটি ভিন্নধর্মী বায়ুপুঞ্জ সীমান্তে এসে মিলিত হওয়ায় আবহাওয়াবিদ্যায় সীমান্তের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে পর্যালোচন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের বৈশিষ্ট্যগুলি হল-
1. উন্নতা:
দুটি ভিন্ন উন্নতার বায়ুপুঞ্জ সীমান্তে উপস্থিত হওয়ায় উন্নতার যথেষ্ট পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তাই সীমান্ত বরাবর উদ্বৃতার পার্থক্যজনিত ঢাল (Temperature gradient) অনেকটা বেশিই হয়। তবে উদ্ধৃতার পার্থক্যের ঢালটি বায়ুপুঞ্জ দুটির উন্নতার ওপর নির্ভর করে। দুটি বায়ুপুঞ্জের মধ্যে উয়তার পার্থক্য বেশি হলে সীমান্ত অঞ্চলটি সংকীর্ণ ও সীমান্ত তলটি তীক্ষ্ণ হয়।
আবার, বায়ুপুঞ্জটির মধ্যে উন্নতার পার্থক্য কম হলে সীমান্ত অঞ্চলটি বেশ প্রশস্ত ও সীমান্ততলটি মৃদু ঢালবিশিষ্ট হবে। ফলে সীমান্ততলের উভয় পার্শ্বে সমপ্রেষরেখাগুলি (isobars) ভূপৃষ্ঠের অনুভূমিক তলের সঙ্গে সমান্তরালে অবস্থান করলেও সীমান্ততলে এসে অনুভূমিক তলের সঙ্গে তির্যকরূপে অবস্থান করে।
2. বায়ুচাপ:
বায়ুপুঞ্জের মধ্যে বায়ুচাপের খুব একটা পার্থক্য লক্ষ করা না গেলেও সীমান্তের উভয় পার্শ্বে বায়ুর উষ্ণতা ও ঘনত্বের পার্থক্যের জন্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বায়ুচাপের পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তাই সমপ্রেষরেখাগুলি (Isobars) বায়ুপুঞ্জের মধ্যে সরলরৈখিক থাকলেও সীমান্তে বাঁক নিয়ে অন্য বায়ুপুঞ্জ এলাকায় প্রবেশ করে। উচ্চচাপের দিকে সমপ্রেষরেখাগুলি উত্তল বাঁক এবং নিম্নচাপের দিকে অবতল বাঁক সৃষ্টি করে।
3. বায়ুপ্রবাহ:
বায়ু সর্বদা বায়ুচাপীয় ঢাল ও কোরিওলিস বলের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সমপ্রেষরেখার সমান্তরালে প্রবাহিত হওয়ার চেষ্টা করে। ঘূর্ণবাতের ক্ষেত্রে সমপ্রেষরেখাগুলি বক্ররৈখিক হওয়ায় বায়ু সমপ্রেষরেখাকে সূক্ষ্মকোণে ছেদ করে প্রবাহিত হয়। ফলে বায়ুর গতিবেগ বেড়ে যায়।
4. মেঘ সৃষ্টি ও বৃষ্টিপাত:
সীমান্ততল বরাবর উন্ন বায়ু হালকা হওয়ায় ঊর্ধ্বমুখী হয়। ফলে দ্রুত অ্যাডিয়াবেটিক পদ্ধতিতে শীতলীভবনের ফলে তাপমাত্রা হারিয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয় ও মেঘ সৃষ্টি করে। এর ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও প্রগাঢ়তা সীমান্ততলের ঢালের ওপর নির্ভর করে।